কার্টুনিস্ট মেহেদী হক পেলেন নারায়ণ দেবনাথ পুরস্কার

কার্টুনিস্ট মেহেদী হক পেলেন নারায়ণ দেবনাথ পুরস্কার

তরুণ কার্টুনিস্ট মেহেদী হক দেশে তাঁর জাত চিনিয়েছেন। এবার পুরস্কার পেলেন ভারত থেকেও। গত ২৮ ডিসেম্বর তাঁর হাতে উঠল ‘নারায়ণ দেবনাথ পুরস্কার (২০১৬)’।

কলকাতার বিখ্যাত কমিকস-শিল্পী নারায়ণ দেবনাথের নামে এই পুরস্কারটি দেওয়া হচ্ছে ২০১৪ সাল থেকে। কার্টুন, কমিকস এবং বাংলাদেশে কমিকস আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করায় এই পুরস্কার পেলেন মেহেদী হক। তাঁর সঙ্গে পুরস্কার পেয়েছেন কলকাতার কমিকস-শিল্পী সায়ান পাল। পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল কলকাতার প্রকাশনা সংস্থা ‘বুক ফার্ম’ এবং লিটল ম্যাগ ‘অহর্নিশ’।

পুরস্কার পাওয়ার পর মেহেদী হক বললেন, ‘অবাক এবং অসম্ভব আনন্দের অনুভূতি হচ্ছে একই সঙ্গে। এই পুরস্কার বাংলাদেশের কমিকস-যাত্রার জন্য একটা বিরাট অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।’

অনুপ্রেরণা হয়ে থাকার যথেষ্ট কারণ আছে। নারায়ণ দেবনাথের সঙ্গে বাংলাদেশের শিশু-কিশোর এবং বড়রাও পরিচিত। বাংলা কমিকস স্ট্রিপের অন্যতম প্রবাদ পুরুষ বলা হয় নারায়ণ দেবনাথকে। তাঁর সৃষ্ট ‘হাঁদা ভোঁদা’, ‘বাঁটুল দ্য গ্রেট’, ‘নন্টে ফন্টে’, ‘বাহাদুর বেড়াল’, ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড ইন্দ্রজিৎ রায়’, ‘ম্যাজিশিয়ান পটলচাঁদ’ কিংবা ‘ডানপিটে খাঁদু আর তাঁর কেমিক্যাল দাদু’র সঙ্গে পরিচয় আমাদের অনেক দিনের। এই চরিত্রগুলো তুমুল আনন্দে ভাসাচ্ছে ছেলেবুড়ো সবাইকে। তাই নারায়ণ দেবনাথ নিজেই একটি প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠেছেন।

২৮ ডিসেম্বর স্বয়ং নারায়ণ দেবনাথের হাত থেকে পুরস্কার নেওয়ার পর তাঁর সঙ্গে কথাও বলেছেন মেহেদী হক। কী কথা হলো তাঁর সঙ্গে? মেহেদী বললেন, ‘আমরা বাংলাদেশ থেকে এসেছি শুনে ৯৩ বছর বয়সী জীবন্ত এই কিংবদন্তি শিশুদের মতো উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তাঁর পূর্বপুরুষেরা বাংলাদেশের মুন্সিগঞ্জে জেলার বিক্রমপুরের বাসিন্দা ছিলেন। কমিকস নিয়ে কথা বলার চেয়ে তাঁর সেই স্মৃতিগুলো নিয়েই কথা হয়েছে বেশি। কথা বলতে বলতে উপলব্ধি করেছি, এই পর্যায়ের একজন মানুষ, জীবদ্দশায় যিনি ভারতের সর্বোচ্চ প্রায় সব পুরস্কারই পেয়েছেন, কতটা বিনয়ী আর সরল হতে পারেন! এখান থেকে আমাদের শেখার আছে।’

ভারত থেকে পুরস্কার পাওয়া মানে বাংলাদেশের কার্টুন-কমিকসের জন্য বড় একটা স্বীকৃতি। বেশ কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশে কার্টুন ও কমিকস নিয়ে কাজ করছেন মেহেদী হক, সঙ্গে আছেন আরও অনেক তরুণ কার্টুনিস্ট। মেহেদী ও তাঁর বন্ধুরা মিলে গড়ে তুলেছেন ‘আঁকান্তিস’ নামের একটি দল। দলবেঁধে যাঁরা নিয়মিত কার্টুন আঁকেন। এ ছাড়া ‘ঢাকা কমিকস’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানও গড়ে তুলেছেন মেহেদী। এখান থেকে প্রকাশিত হচ্ছে আকর্ষণীয় সব কমিকস বই। সব মিলিয়ে ভারতের পাঠক ও শিল্পীরা আমাদের এই শিল্পটি নিয়ে কী ভাবছেন? সেখানে আমাদের ভবিষ্যৎ​ বাজার কেমন? মেহেদী দারুণ আশাবাদী, ‘ভবিষ্যৎ বেশ ভালো। এই পুরস্কারটাকে আমি বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি। কারণ, আমাদের দেশে এখন বাইরের অনেক কিছুই বন্ধ করে দেওয়ার রব উঠেছে। আসলে তার বদলে নিজেদের কাজের মান ভালো করার জন্য একাগ্রচিত্তে কাজ করা দরকার। সেই সঙ্গে বিপণনে মনোযোগ দিলে আমাদের কাজই বরং বিশ্বের অনেকে সাদরে গ্রহণ করবে। এটা তার একটা প্রমাণ। আমি বিশ্বাস করি, শুধু ভারতেই নয়, আমাদের কমিকসগুলো ইংরেজিতে প্রকাশ করতে পারলে সারা পৃথিবীতেই এর একটা ভালো বাজার তৈরি করা সম্ভব।’