Latest News

কার্টুনিস্ট কিশোরের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন

কার্টুনিস্ট কিশোরের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন

কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরের মুক্তি ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ কার্টুনিস্ট অ্যাসোসিয়েশন। রোববার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জাতীয় জাদুঘরের মূল ফটকের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক মেহেদী হক বলেন, “আমাদের এখন একটাই দাবি কিশোরের জামিন। আশা করছি কর্তৃপক্ষ তা বিবেচনা করবেন।” কার্টুনিস্ট কিশোরের জামিন দেওয়া জরুরি। তার দ্রুত জামিন এবং যথাযথ চিকিৎসার আবেদন জানান কার্টুনিস্ট আবু হাসান।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সারাবাংলা ডট নেটের কার্টুনিস্ট আবুল হাসান আবু, সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডেইলি নিউ এইজের সিনিয়র কার্টুনিস্ট মেহেদী হক, সংগঠনের সমাজকল্যাণ সম্পাদক কার্টুনিস্ট নাসরীন সুলতানা মিতু, কার্টুনিস্ট ও স্থপতি রিশাম শাহাব তীর্থ, কার্টুনিস্ট মাহাতাব রশীদ প্রমুখ।

কার্টুনিস্ট মেহেদী হক পেলেন নারায়ণ দেবনাথ পুরস্কার

কার্টুনিস্ট মেহেদী হক পেলেন নারায়ণ দেবনাথ পুরস্কার

তরুণ কার্টুনিস্ট মেহেদী হক দেশে তাঁর জাত চিনিয়েছেন। এবার পুরস্কার পেলেন ভারত থেকেও। গত ২৮ ডিসেম্বর তাঁর হাতে উঠল ‘নারায়ণ দেবনাথ পুরস্কার (২০১৬)’।

কলকাতার বিখ্যাত কমিকস-শিল্পী নারায়ণ দেবনাথের নামে এই পুরস্কারটি দেওয়া হচ্ছে ২০১৪ সাল থেকে। কার্টুন, কমিকস এবং বাংলাদেশে কমিকস আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করায় এই পুরস্কার পেলেন মেহেদী হক। তাঁর সঙ্গে পুরস্কার পেয়েছেন কলকাতার কমিকস-শিল্পী সায়ান পাল। পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল কলকাতার প্রকাশনা সংস্থা ‘বুক ফার্ম’ এবং লিটল ম্যাগ ‘অহর্নিশ’।

পুরস্কার পাওয়ার পর মেহেদী হক বললেন, ‘অবাক এবং অসম্ভব আনন্দের অনুভূতি হচ্ছে একই সঙ্গে। এই পুরস্কার বাংলাদেশের কমিকস-যাত্রার জন্য একটা বিরাট অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।’

অনুপ্রেরণা হয়ে থাকার যথেষ্ট কারণ আছে। নারায়ণ দেবনাথের সঙ্গে বাংলাদেশের শিশু-কিশোর এবং বড়রাও পরিচিত। বাংলা কমিকস স্ট্রিপের অন্যতম প্রবাদ পুরুষ বলা হয় নারায়ণ দেবনাথকে। তাঁর সৃষ্ট ‘হাঁদা ভোঁদা’, ‘বাঁটুল দ্য গ্রেট’, ‘নন্টে ফন্টে’, ‘বাহাদুর বেড়াল’, ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড ইন্দ্রজিৎ রায়’, ‘ম্যাজিশিয়ান পটলচাঁদ’ কিংবা ‘ডানপিটে খাঁদু আর তাঁর কেমিক্যাল দাদু’র সঙ্গে পরিচয় আমাদের অনেক দিনের। এই চরিত্রগুলো তুমুল আনন্দে ভাসাচ্ছে ছেলেবুড়ো সবাইকে। তাই নারায়ণ দেবনাথ নিজেই একটি প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠেছেন।

২৮ ডিসেম্বর স্বয়ং নারায়ণ দেবনাথের হাত থেকে পুরস্কার নেওয়ার পর তাঁর সঙ্গে কথাও বলেছেন মেহেদী হক। কী কথা হলো তাঁর সঙ্গে? মেহেদী বললেন, ‘আমরা বাংলাদেশ থেকে এসেছি শুনে ৯৩ বছর বয়সী জীবন্ত এই কিংবদন্তি শিশুদের মতো উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তাঁর পূর্বপুরুষেরা বাংলাদেশের মুন্সিগঞ্জে জেলার বিক্রমপুরের বাসিন্দা ছিলেন। কমিকস নিয়ে কথা বলার চেয়ে তাঁর সেই স্মৃতিগুলো নিয়েই কথা হয়েছে বেশি। কথা বলতে বলতে উপলব্ধি করেছি, এই পর্যায়ের একজন মানুষ, জীবদ্দশায় যিনি ভারতের সর্বোচ্চ প্রায় সব পুরস্কারই পেয়েছেন, কতটা বিনয়ী আর সরল হতে পারেন! এখান থেকে আমাদের শেখার আছে।’

ভারত থেকে পুরস্কার পাওয়া মানে বাংলাদেশের কার্টুন-কমিকসের জন্য বড় একটা স্বীকৃতি। বেশ কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশে কার্টুন ও কমিকস নিয়ে কাজ করছেন মেহেদী হক, সঙ্গে আছেন আরও অনেক তরুণ কার্টুনিস্ট। মেহেদী ও তাঁর বন্ধুরা মিলে গড়ে তুলেছেন ‘আঁকান্তিস’ নামের একটি দল। দলবেঁধে যাঁরা নিয়মিত কার্টুন আঁকেন। এ ছাড়া ‘ঢাকা কমিকস’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানও গড়ে তুলেছেন মেহেদী। এখান থেকে প্রকাশিত হচ্ছে আকর্ষণীয় সব কমিকস বই। সব মিলিয়ে ভারতের পাঠক ও শিল্পীরা আমাদের এই শিল্পটি নিয়ে কী ভাবছেন? সেখানে আমাদের ভবিষ্যৎ​ বাজার কেমন? মেহেদী দারুণ আশাবাদী, ‘ভবিষ্যৎ বেশ ভালো। এই পুরস্কারটাকে আমি বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি। কারণ, আমাদের দেশে এখন বাইরের অনেক কিছুই বন্ধ করে দেওয়ার রব উঠেছে। আসলে তার বদলে নিজেদের কাজের মান ভালো করার জন্য একাগ্রচিত্তে কাজ করা দরকার। সেই সঙ্গে বিপণনে মনোযোগ দিলে আমাদের কাজই বরং বিশ্বের অনেকে সাদরে গ্রহণ করবে। এটা তার একটা প্রমাণ। আমি বিশ্বাস করি, শুধু ভারতেই নয়, আমাদের কমিকসগুলো ইংরেজিতে প্রকাশ করতে পারলে সারা পৃথিবীতেই এর একটা ভালো বাজার তৈরি করা সম্ভব।’

অনলাইন কার্টুন প্রদর্শনী ২০২১

অনলাইন কার্টুন প্রদর্শনী ২০২১

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পুর্তি উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ কার্টুনিস্ট এসোসিয়েশন একটি অনলাইন কার্টুন প্রদর্শনীর আয়োজন করতে যাচ্ছে। এই প্রদর্শনীতে স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সরকারের আমলে পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত বাছাইকৃত রাজনৈতিক কার্টু্ন স্থান পাবে। প্রদর্শনীর মূল থিম হল- বাংলাদেশের কার্টুনিস্টদের চোখে গত ৫০ বছরে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পটপরিবর্তন, এবং বাক-স্বাধীনতা।

এই আয়োজনে অংশ নেবার জন্য বিভিন্ন সময়ে পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত আপনার আঁকা রাজনৈতিক কার্টুন পাঠানোর অনুরোধ করা হচ্ছে। কার্টুন জমা হবার পর প্রতি অংশগ্রহণকারীর সর্বোচ্চ পাঁচটি কার্টুন বাছাই করে প্রদর্শনীতে রাখা হবে। কার্টুন নির্বাচনে/ পাঠানোতে যা মাথায় রাখতে হবে- প্রতি সরকারের আমলের সর্বোচ্চ তিনটা কাজ (একই দল পর পর ক্ষমতায় থাকলে প্রতি টার্ম আলাদা বিবেচিত হবে। যেমন- গত তিন বার আওয়ামী লীগ টানা ক্ষমতায় আছে, সেক্ষেত্রেও এই পুরো সময়ে তিনবার সরকার গঠন হওয়ায় তিন আমলের সর্বোচ্চ তিনটি করে কাজ দেয়া যাবে) জমা দেয়া যাবে, যা- ১. পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত; ২. রাজনৈতিক স্যাটায়ার হিসেবে সাহসী বলে মনে করেন; ৩. আপনার বেস্ট কাজ বলে মনে করেন; ৪. কোন কাজটা কত তারিখে কোথায় প্রকাশিত ও কী বিষয় নিয়ে আঁকা সেটা ক্যাপশনে এভাবে লিখুন- (নিচে নমুনা দেয়া হল)

নির্বাচন কমিশনের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা চলছে- মাহবুব তালুকদারের বক্তব্যের বিপক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নুরুল হুদা। ৩ মার্চ, ডেইলি নিউ এইজে প্রকাশিত।
রাজনৈতিক ব্যক্তির ক্যারিকেচার করা কার্টুনই হতে হবে এমন না, অন্যান্য রাজনৈতিক যে কোন বিষয় নিয়ে করা কাজও দেয়া যাবে। যেমন দ্রব্যমূল্য, নির্বাচন নিয়ে নৈরাজ্য ইত্যাদি। তবে সর্বোচ্চ ভাল রেজোলিউশনে পাঠানোর অনুরোধ করা হচ্ছে। ইমেইল করুন This email address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it. এ। প্রদর্শনীর সময় ও বিস্তারিত পরবর্তীতে জানানো হবে।
মিটিঙের একটি মুহূর্ত
কার্টুনিস্ট নজরুল ইসলাম আর নেই

কার্টুনিস্ট নজরুল ইসলাম আর নেই

খ্যাতিমান কার্টুনিস্ট ও চিত্রশিল্পী নজরুল ইসলাম আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ... রাজিউন)। বুধবার সকালে ঢাকার বাসাবো কদমতলার ভাড়া বাসায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও বহু গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। দীর্ঘদিন ধরে লিভার জটিলতায় ভুগছিলেন নজরুল ইসলাম।

তার পারিবারিক বন্ধু লেখক খায়রুল বাসার বলেন, 'নজরুল ইসলাম অনেকদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। গত কয়েকদিন তার শরীর একটু বেশিই খারাপ ছিল। সকালের কোনো এক সময় তিনি শেষনিশ্বাঃস ত্যাগ করেন। তাকে রায়েরবাজার বধ্যভূমি সংলগ্ন কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।' 

নজরুল ইসলামের বাড়ি সাতক্ষীরায়। তিনি সাতক্ষীরা প্রাণনাথ হাইস্কুল থেকে ১৯৬৫ সালে এসএসসি পাস করেন। এরপর তৎকালীন ঢাকা আর্ট কলেজ (বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ) থেকে স্নাতক শেষ করেন। জাপান, ফ্রান্স, রাশিয়া, ভারতসহ বিভিন্ন দেশে তার ছবির প্রদর্শনী হয়েছে। এছাড়া হংকংয়ে জাতিসংঘের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত প্রদর্শনীসহ বহু প্রদর্শনীতে তার ছবি পুরষ্কৃত হয়।  

মুক্তিযুদ্ধের সময় নিউমার্কেটের পেছনের দিকে থাকায় একটি হলে (বর্তমান শাহনেওয়াজ হল) থাকতেন নজরুল ইসলাম। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ওই হলে আক্রমণ করে অনেককে লাইন দাঁড় করিয়ে গুলি করে। সেই সময় গুলিবিদ্ধ হলেও ভাগ্যক্রমে বেঁচে চান তিনি। তবে তার বন্ধু শাহনেওয়াজসহ অনেকেই শহীন হয়েছিলেন সেদিন। পরে শাহনেওয়াজের নামে চারুকলার ওই হলের নামকরণ করা হয়। একাত্তরের সেই দুঃসহ স্মৃতি আজীবন বয়ে বেড়াতে হয়েছে নজরুল ইসলামকে।

দীর্ঘদিন তিনি সাপ্তাহিক বিচিত্রায় কাজ করেছেন। এছাড়া দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পত্রিকায় অনেক আলোচিত প্রচ্ছদ ও কার্টুন এঁকেছেন। সর্বশেষ বেসরকারি সংস্থা 'বেলা'য় কাজ করতেন নজরুল ইসলাম। দুই বছর আগে তিনি সেখান থেকে অবসর নেন।

ষাটের দশকের কার্টুনিস্ট তোফা আর নেই

ষাটের দশকের কার্টুনিস্ট তোফা আর নেই

৭৬ বছর বয়সে চলে যাওয়া তোফা কার্টুন আঁকার পাশাপাশি কবিতা ও ছড়াতেও অবদান রেখে গেছেন। লাইজুল ইসলাম জানান, ক’বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে শেখ তোফাজ্জেল হোসেন শয্যাশায়ী হয়ে পড়েছিলেন। এরপর থেকে তিনি শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। 

সোমবার বাদ জোহর জানাজা শেষে আমিনবাজার কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

১৯৬৮ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি তার চাঁদা তোলা টাকায় ‘আর্তনাদ’ নামের সংকলনে শেখ তোফাজ্জেল ‘তোফাটুন’  নাম দিয়ে একটি কার্টুন প্রকাশ করেন। তার সেই কার্টুনে তিনি দেখিয়েছিলেন, একটি গরু ঘাস খাচ্ছে পূর্ব পাকিস্তানে, আর তার দুধ যাচ্ছে পশ্চিম পাকিস্তানে। পাকিস্তানি শোষণের শিকার বাংলার মানুষ লুফে নিয়েছিল কার্টুনটি। আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে গণআন্দোলনের প্রেরণাদায়ী এই কার্টুনটিকে বাংলার স্বাধীনতার আন্দোলনের পটভূমি তৈরির ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে দেখা হয়। তখনপাকিস্তান সরকার শেখ তোফাজ্জল হোসেনকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠিয়েছিল। বঙ্গবন্ধুও তখন সেখানে বন্দি ছিলেন। ১৯৪৪ সালে আসামের মারিয়ানি শহরে জন্ম নেওয়া শেখ তোফাজ্জেল পরে পরিবারের সঙ্গে চলে আসেন রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার শালমারা গ্রামে। শেখ তোফাজ্জল হোসেন বেশকিছু বই লিখেছেন। ২০১২ সাল পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার হাজার কার্টুন এঁকেছেন, যা প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন পত্রিকায়। তিনি ২০০৫ পর্যন্ত প্রায় ২৫ বছর একটানা বাংলাদেশ বেতারে বাংলা খবর পাঠ করেছেন।  ১৯৪৪ সালে ভারতের আসামের মারিয়ানি শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

কার্টুনিস্টের যুবা বয়সের একটি ছবি

 

Image
bancarasbd@gmail.com
+880 1859098777

54, South Bishil, Mirpur-1, Dhaka-1216